কোভিডের ফলে কার্বন এমিশনের মাত্রা অনেক কমেছে – এ কথা একশো শতাংশ সত্যি। বিশেষ করে যখনই লকডাউন হয়েছে, তখনই কলকারখানা, গাড়ি-ঘোড়া থেকে নির্গত ধোঁয়ার সর্বগ্রাসী প্রভাব কমেছে। তার ফলে বাতাস পরিচ্ছন্ন হয়েছে, ওজোন স্তর মেরামত হয়েছে।
আগামী দিনেও যদি অনলাইন শিক্ষা বা কাজকর্মের এই ধারা অব্যাহত থাকে, তা হলে কার্বন নির্গমনের হার অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু পাশাপাশি আর এক দল বিজ্ঞানী চোখে আঙুল দিয়ে কোভিডের ভয়ানক এক অভিঘাতের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। স্রেফ কোভিড আক্রান্তের দেহ সৎকার করতে গিয়ে কাটা পড়ছে বিপুল পরিমাণ গাছ। পূর্ণ বয়স্ক গাছ যে পরিমাণ অক্সিজেন দেয় পৃথিবীতে, তার তুলনা কোনও কিছুর সঙ্গে হয় না। বনসৃজন চালিয়ে গেলেও বাতাসে অক্সিজেন বাড়াতে বহু শত বছর লেগে যাবে।
সেকেন্ড ওয়েভ যে দেশের গ্রামে-গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়বে এভাবে, তা আগে থেকে আঁচ করতে পারেননি কেউই। এক এক জায়গায় কাঠের অভাব এতই তীব্র যে দেহ সৎকার না করেই নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঠিক যেন জিম করবেটের লেখা থেকে উঠে আসা বইয়ের পাতা – কলেরায় উজাড় হয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম, দরিদ্র, অসহায় মানুষ মুখে আগুনটুকু ছুঁইয়ে স্বজনের দেহ ফেলে দিচ্ছে জঙ্গলে। আর সেই মৃত মানুষের মাংস খেয়েই নরখাদক হয়ে যাচ্ছে জঙ্গলের বাঘ বা চিতা! জঙ্গুলে জমি ফাঁকা করে কবরখানাও গড়ে তুলতে হচ্ছে তো!
কোভিডের পরীক্ষা বাবদ বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক কিট প্রয়োজন, রোজ অজস্র পিপিই, গ্লাভস, মাস্ক ইত্যাদি বাতিল হচ্ছে। বেড়েছে অনলাইন শপিং, ডিসপোজেবল কাটলারি, জলের বোতল, স্যানিটাইজার ও বোতলবন্দি লিকুইড সাবানের ব্যবহার। এই বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণ কীভাবে হবে, তা নিয়েও সন্দেহ আছে। হয় তা মাটিতে রয়ে যাবে আরও ৫০০-৬০০ বছর, না হলে সমুদ্র আর নদীর জলে মিশে জলের মান আরও খারাপ করবে।
কোভিড হয়তো কয়েক বছরের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে। কিন্তু তার ফলে জলবায়ুর কী পরিবর্তন হতে চলেছে, তা আন্দাজ করাও দুষ্কর। রাষ্ট্রপুঞ্জের সেক্রেটারি জেনারেল আন্তোনিও গুরেতেরেস পর্যন্ত স্বীকার করেছেন যে, কোভিড যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তা সাময়িক ক্ষতি করবে। কিন্তু মাটি বা জলের দূষণের প্রভাব থাকবে আরও অনেকদিন।
উন্নত বিশ্বের দেশগুলি তাদের বিপুল বায়ো মেডিকাল বর্জ্য গরিব দেশের ঘাড়ে চাপাচ্ছে। এশিয়ায় রোজ আন্দাজ কত ফেস মাস্ক ও ফেস শিল্ড ফেলে দেওয়া হয় জানেন? গড়ে ১.৮ বিলিয়ন মেট্রিক টন! এই প্লাস্টিক নিশ্চিতভাবেই নানা পথে সমুদ্রে গিয়ে মিশবে।
তাই আগামীদিনে পরিবেশ বাঁচিয়ে রাখার লড়াইটা আরও কঠিন হতে চলেছে – এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন! তার একটা উপায় হতে পারে প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার, আর কাপড় বা চটের মোড়ক বা ব্যাগ নিয়ে বাজার করা উচিত।
প্রথমেই যেটা বলতে চাই, তা হল – ইংরেজিতে ফটফট কথা বলতে পারেন না বলে মন…
খবরে চোখ রাখলেই দেখবেন, যত দিন যাচ্ছে, বয়স্ক মানুষদের ঠকিয়ে সর্বস্বান্ত করার ঘটনা বাড়ছে। কিছু…
তবে থেকেই যবে থেকে প্যানডেমিক শুরু হয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গিয়েছে গার্হস্থ্য হিংসা – এ কথা…
এবারের পুজোটাও বোধ হয় ঘরেই কাটবে -- তেমনই একটা আশঙ্কার মেঘ ক্রমশ ঘনিয়ে উঠছে। কেন্দ্রীয়…
# ১ অন্যজনের প্লাস আর মাইনাস পয়েন্টগুলো জেনে তবেই এগোন কোনও মানুষ, কোনও সম্পর্কই পারফেক্ট…
সোশাল মিডিয়া আসার আগে ছিল বাড়ির বয়স্ক আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, স্কুল-কলেজের বন্ধুরা। একটু গোলগাল, খুশিয়াল গোছের…