আপনিও যদি এ দেশের সাধারণ মানুষের মতো এখনও ভাবেন যে কোভিড নিয়ে মিডিয়ায় মাতামাতি বেশি হচ্ছে এবং এই গরমে মাস্ক পরে থাকা যায় না – তা হলে আপনার কয়েকটি তথ্য জেনে রাখা উচিত। আর পরিসংখ্যানে যদি বিশ্বাস করেন, তা হলে ভয় পাওয়ার দিকেই যাচ্ছে ব্যাপারটা।
. সংখ্যা সাক্ষী দিচ্ছে, এ যাবৎ ভারতবর্ষে মোট যত মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, তার ১০ শতাংশ কেস রেজিস্টার্ড হয়েছে গত সাতদিনে। গত এক বছরে অতিমারী যখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল, তখনও এই গতি দেখা যায়নি। মনে রাখবেন, যত কেস রিপোর্টেড হয় আমাদের দেশে, সেটা একটা ভগ্নাংশ – বহু মানুষ স্রেফ একঘরে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রোগ চেপে রাখছেন।
. এই হারে কেস বাড়লে স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষে পরিকাঠামো জোগানো এক কথায় অসম্ভব – সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়েও বন্যার জলের মতো রোগী আসা ঠেকানো যাবে না। বেডের হাহাকার এমনিতেই শুরু হয়ে গিয়েছে, গত সপ্তাহ থেকে বাতিল করা হচ্ছে পিছিয়ে দেওয়া যায় এমন সমস্ত অপারেশন।
. মিলছে না রেমডেসিভিরের মতো কোভিড চিকিৎসায় একান্ত প্রয়োজনীয় অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ, অক্সিজেনের ভান্ডারেও টান ধরেছে। নির্বাচন, গরম আর কোভিডের কারণে কমে গিয়েছে ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের সংখ্যা, ফলে রক্তের আকালে ভুগছে শহরের ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি। ইমার্জেন্সি চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে প্রতি পদে।
. অনেকে হয়তো ভাবছেন সেফ হোম আছে, হাসপাতালগুলি হোটেলের সঙ্গে জোট বেঁধে পরিষেবা জোগানোর কথা ভাবছে, তাই পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাবে না কখনওই। মনে রাখবেন, হোটেলের বিলাসবহুল ঘর বা সেফ হোমের বেড কখনও হাসপাতালের বিকল্প হতে পারে না। আপনাকে পরিষেবা দেওয়ার মতো প্রশিক্ষিত ডাক্তার-নার্স মিলবে কোথায়?
. এখনও এ রাজ্যে অন্তত পরিস্থিতি লকডাউনের দিকে যায়নি, কিন্তু যাবে না এ কথা হলফ করে বলা মুশকিল। এখনও মাস্ক ছাড়া বহু মানুষ নির্ভয়ে ঘুরছেন, উৎসব-অনুষ্ঠান, বিয়েবাড়িতে যাওয়ার কথা ভাবছেন, ছুটিতে দীঘা-পুরী-দার্জিলিং যাওয়ার প্ল্যান করছেন। এ সব হঠকারিতার ফলে রোগও বাড়ছে দুদ্দাড়িয়ে।
. অবস্থা এমনই যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমণ কোথা থেকে এসেছে, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। অনেকে বলছেন, এবার মৃত্যুহার কম। কিন্তু বহু মানুষ যদি ভয়ানক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে জায়গা না পান, তা হলেও কিন্তু মহা বিপদ হবে।
. মাস্ক পরুন বাড়ির বাইরে বেরোলেই। সোশাল ডিসট্যান্সিং মানুন। কোনও সারফেস ছুঁয়ে ফেললে হাত ধুয়ে বা স্যানিটাইজ করে নিন। যাঁরা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করছেন, তাঁরা সার্জিকাল মাস্কের পাশাপাশি একটা কাপড়ের মাস্কও ব্যবহার করুন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোবেন না, আড্ডা, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করা মুলতুবি রাখুন। ভিড় থেকে দূরে রাখুন নিজেকে।
. এর পরেও যাঁরা রোগটাকে ছেলেখেলা ভাবছেন বা পাত্তা দিচ্ছেন না, তাঁদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ছাড়া অন্য কোনওভাবে আপনি নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন না। আর হ্যাঁ, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভ্যাকসিন নিয়ে নিন।
