পরিস্থিতি যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে নিজের খেয়াল নিজেকেই রাখতে হবে – একথা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। কোভিড সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে ফুসফুসের দিকে, তাই ফুসফুসের শক্তি বাড়িয়ে নেওয়ার নানা উপায় খুঁজতে ব্যস্ত সবাই।
নিশ্বাস নেওয়া আর ছাড়াটাও যে একটা কাজ, তা তো আমরা টেরই পাই না! কিন্তু প্রাচীন ভারতীয় যোগবিদ্যায় স্রেফ শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোজের বেঁচে থাকাটাকে আরও সুস্থ, সুন্দর করে তোলা হত। সেই বিদ্যেই প্রাণায়াম। যাঁরা কপালভাতি, অনুলোম-বিলোম অভ্যেস করেন নিয়মিত, তাঁরা একবাক্যে স্বীকার করে নেন এর গুণ!
প্রাণায়ামে কি ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে?
প্রাণায়াম অভ্যেসের সময় যখন আপনি প্রশ্বাস ছাড়ছেন, তখন ফুসফুসের একেবারে তলদেশ পর্যন্ত খালি হয়ে যায়। আমাদের শ্বাসবায়ুর সঙ্গে অনেক অপরিশোধিত কণাও ঢুকে পড়ে ফুসফুসে। মাধ্যাকর্ষণের টানে তা জমা হয় এই অঙ্গের একেবারে নিম্নতম প্রান্তে। দীর্ঘকাল তা সেখানেই আটকে থাকলে ফুসফুসের কার্যকারিতা ব্যাহত হবে। কিন্তু প্রাণায়াম এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের একেবারে গভীরতম কোণ থেকে শেষতম কণাটিকেও বের করে আনতে পারে, ফলে ফুসফুস হয়ে ওঠে শক্তিশালী।
প্রাণায়াম স্ট্রেস কমাতে কার্যকর
আপনার স্ট্রেস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে শারীরিক অসুখ-বিসুখ ও ব্যথাবোধ। প্রাণায়াম আপনাকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে। তাতে যে কেবল মন ভালো হয় তা নয় কিন্তু, ধীরে ধীরে আপনার নার্ভাস সিস্টেমের স্বাস্থ্যও ভালো হতে আরম্ভ করে। ফলে অনেক শারীরিক অসুবিধে থেকেও মুক্তি পাবেন।
শ্বাস–প্রশ্বাসের ব্যায়াম কী হজমশক্তিতে প্রভাব ফেলে?
হ্যাঁ, ফেলে। অন্তত প্রাণায়াম তো ফেলে। আমাদের শ্বাস নেওয়ার তালে তালে ওঠা-পড়া করে আমাদের ডায়াফ্রাম। সেই সঙ্গে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উত্থান-পতন হয়। পাকস্থলীর খাবার বা পানীয়ও শ্বাসের তালে তালে ওঠে-পড়ে। প্রাণায়াম করার সময় আপনি যেভাবে বসেন, তাতে খাদ্য ও পানীয়ের গতিপথে কোনও বাধা সৃষ্টি হয় না। ডায়াফ্রামও পুরোপুরি কাজ করে। সঠিকভাবে প্রাণায়াম অভ্যেস করলে ক্রমশ আপনার ওজন কমতে আরম্ভ করবে।
উজ্জ্বল নিদাগ ত্বক পেতে সাহায্য করে প্রাণায়াম
অক্সিজেন আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ। প্রাণায়ামের ফলে বাড়তি অক্সিজেন পাবে আপনার ত্বক, ফলে তার সুস্থ ও সুন্দর হয়ে ওঠাটা কেবল সময়ের অপেক্ষা!
মনের জোর বাড়ায়
প্রাণায়ামের সুবিধে হচ্ছে, তা বাচ্চা-বুড়ো সকলেই অভ্যেস করতে পারে এবং তা মনের জোর বাড়াতে দারুণ কার্যকর। এর নিয়মিত অভ্যেস বাড়ায় মনঃসংযোগ। যাঁরা ডিপ্রেশনে ভুগছেন, তাঁরা প্রাণায়াম অভ্যেস করলে নিশ্চিতভাবেই উপকার পাবেন।
তবে স্রেফ প্রাণায়ামেই ফুসফুসের শক্তি বাড়ে, এমনটা ভাববেন না। কিছু কার্ডিও এক্সারসাইজেও লাভ হয়। যেমন করুন স্কিপিং, জগিং, সাইড রানিং, বার্পিজ, হাই নি, জাম্পিং জ্যাকও খুব ভালো ব্যায়াম। তবে কি, যাঁদের হাঁটু বা কোমরে কোনও সমস্যা আছে, হৃদযন্ত্র দুর্বল তাঁদের এসব ব্যায়াম করার দরকার নেই – এঁদের জন্য প্রাণায়াম খুব নিরাপদ।
টোকিয়ো অলিম্পিকের মতো আসর খেলার দুনিয়া এর আগে দেখেনি – এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।…
. ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যেই কোভিড সংক্রমণের হার আগের চাইতে অনেকটা কমেছে। পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কিছু রাজ্যে…
অলিম্পিক এসে গিয়েছে একেবারে দোরগোড়ায়। ১৩৮তম ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় আমন্ত্রিত WHO প্রধান…
কোভিডের এই যে দুটো গোটা ঢেউ এল এবং গেলো, এর মধ্যে কিন্তু ইউরোপের বেশ কিছু…
বাজারে হরেক রকমের ভোজ্য তেল দেখতে পাবেন – তার মধ্যে কোনটা রান্নায় ব্যবহার করলে শরীর…
বাচ্চার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার দায়িত্বটা মা-বাবাসহ বা পরিবারের সবার। ছোটো থেকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে…