মোটামুটি ধরেই নেওয়া হয়েছে যে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ চলে গিয়েছে, তৃতীয় ঢেউ প্রবল আঘাত হানবে শিশুদের উপর – তাই ঢেলে সাজানো হচ্ছে গোটা দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। শিশুদের জন্যে গড়ে উঠছে বিশেষ পেডিয়াট্রিক আইসিইউ, ছোটো-বড়ো সব হাসপাতালেই পেডিয়াট্রিক কেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার কাজ চলছে। উদ্দেশ্য একটাই, সেকেন্ড ওয়েভ যেমন আচমকাই চোখে আঙুল দিয়ে প্রস্তুতি না থাকাটা দেখিয়ে দিয়েছিল, তেমন বোকামি যেন ফের না হয়।
কিন্তু সেই ফাঁক গলে আবার অন্য বিপদ হানা দেবে না তো? বাচ্চারাই বেশি আক্রান্ত হবে কোভিডে, তা নিয়ে একটা হাইপ তৈরি হয়েছে এবং ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স গত সপ্তাহে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে তৃতীয় ওয়েভে কেবল শিশুরাই আক্রান্ত হবে, এমনটা মনে করার কোনও যু্ক্তিযুক্ত কারণ নেই। কোভিড পেশেন্টের সংখ্যা বাড়লে শিশুদের সংখ্যাও বাড়বে – ঠিক সেটাই দেখা গিয়েছে প্রথম ও দ্বিতীয় ওয়েভের ক্ষেত্রেও। তাই বাকিদের নিশ্চিন্ত হয়ে থাকার কোনও কারণ নেই!
দিল্লিতে গত বছরের আগস্ট মাসে একটা সেরোলজিকাল সার্ভে করা হয়েছিল, তাতে দেখা গিয়েছে যে প্রায় ৩৮% শিশু-কিশোরের রক্তের নমুনায় কোভিড এক্সপোজারের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। কিছু বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য বলছে, ভারতের বহু শহরে ২৫% ১০-১৭ বছর বয়সিদের শরীরে কোভিড অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। তার মানে একটাই, শিশু-কিশোররা গোড়া থেকে আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু রোগ তাদের ক্ষেত্রে দাঁত-নখ বের করেনি বা তারা অ্যাসিম্পটোম্যাটিক ছিল বলে সমস্যাটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি।
শিশু-কিশোরদের থেকে সংক্রমণ ছড়ায় দ্রুত, কিন্তু তারা নিজেরা সাধারণত বাড়িতেই সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু কোভিড থেকে সেরে ওঠার মাসখানেক পরেই কিছু রোগী পেডিয়াট্রিক ইনফ্লামেটরি মাল্টিসিস্টেম সিনড্রোম (PIMS)-এ আক্রান্ত হচ্ছে। সেটাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতি সিরিয়াস বা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই এ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার যাতে কোনও লক্ষণ দেখলেই বাবা-মা দেরি না করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে পারেন।
সমাজে অ্যাকটিভ কোভিড কমতে আরম্ভ করলেই PIMS বাড়ে, এমনটা দেখা গিয়েছে। এই মুহূর্তে যেমন মুম্বই ও তার আশপাশের এলাকায় PIMS আক্রান্তের সংখ্যা প্রচুর। তাই একবার জ্বর আসার মাসখানেকের মধ্যে কোনও বাচ্চার ফের জ্বর এলে, পেটব্যথা, বমি হলে, র্যাশ বেরোলে বা হাত-পা ফুলে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এই রোগের লক্ষণ ডেঙ্গি, বা কাওয়াসাকি সিনড্রোমের মতোই – চিনতে ভুল হলে বিপদ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চার হয়তো প্রথমবার কোভিড হওয়ার সময় কোনও লক্ষণই দেখা যায়নি — সেও PIMS-এ আক্রান্ত হতে পারে।
আশার কথা হচ্ছে, সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে PIMS সেরে যায়, তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না। নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধপত্রও দেবেন না সন্তানকে।
টোকিয়ো অলিম্পিকের মতো আসর খেলার দুনিয়া এর আগে দেখেনি – এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।…
. ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যেই কোভিড সংক্রমণের হার আগের চাইতে অনেকটা কমেছে। পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কিছু রাজ্যে…
অলিম্পিক এসে গিয়েছে একেবারে দোরগোড়ায়। ১৩৮তম ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় আমন্ত্রিত WHO প্রধান…
কোভিডের এই যে দুটো গোটা ঢেউ এল এবং গেলো, এর মধ্যে কিন্তু ইউরোপের বেশ কিছু…
বাজারে হরেক রকমের ভোজ্য তেল দেখতে পাবেন – তার মধ্যে কোনটা রান্নায় ব্যবহার করলে শরীর…
বাচ্চার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার দায়িত্বটা মা-বাবাসহ বা পরিবারের সবার। ছোটো থেকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে…